ব্লগ

ধীর ইন্টারনেটে ওয়ার্ডপ্রেস দ্রুত রাখার পথ

কমদামি ফোন ও স্লো ডেটায় ওয়ার্ডপ্রেস দ্রুত রাখার সহজ ধাপ: ছবি, ক্যাশিং, থিম ও প্লাগইন পরীক্ষা।

WordPress (ওয়ার্ডপ্রেস) সাইটের গতি তিনটি জিনিসে ঠিক হয়: পেজে কত বড় ফাইল নামে, সার্ভার কত দ্রুত উত্তর দেয়, আর কত অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিপ্ট চলে। ধীর মোবাইল ডেটায় এই তিনটির দোষ সবচেয়ে আগে বোঝা যায়, কারণ সেখানে একটু বাড়তি ওজনও টের পাওয়া যায়।

আগে মাপুন, তারপর বদলান

গতি ঠিক করার আগে জানতে হবে কোথায় সময় যাচ্ছে। নিজের ফোনে, মোবাইল ডেটা দিয়ে, সাইটটি খুলে দেখুন। অফিসের ওয়াইফাইয়ে সমস্যা দেখা যায় না, কারণ সেখানে গতি অনেক বেশি।

মাপার সহজ নিয়ম:

১. ফোনের ব্রাউজারে সাইটটি খুলুন, মোবাইল ডেটা চালু রেখে। ২. হোমপেজ আর একটি ভেতরের পেজ, দুইটাই দেখুন। ৩. কোন অংশ আসতে দেরি হয়, তা খেয়াল করুন: ছবি, লেখা, নাকি পুরো পেজ। ৪. একটি বদল করার পর আবার একইভাবে দেখুন।

ব্রাউজারের ডেভেলপার টুলে নেটওয়ার্ক ধীর করার অপশন থাকে। সেটি দিয়ে দেখলে আরও পরিষ্কার বোঝা যায়। কিন্তু আসল পরীক্ষা সবসময় আসল ফোন আর আসল ডেটায় করুন।

ছবি: সবচেয়ে বড় কারণ

অনেক সাইট ধীর হয় বড় ছবির কারণে। ফোনে তোলা একটি ছবি কয়েক মেগাবাইট হতে পারে, অথচ সাইটে তার অনেক ছোট সংস্করণই যথেষ্ট। ছবি ছোট না করে আপলোড করলে পেজ নামতে অনেক সময় লাগে।

ছবি ঠিক করার নিয়ম:

  • আপলোডের আগে ছবির মাপ ঠিক করুন, পরে সাইটে টেনে ছোট করবেন না।
  • বড় হিরো ছবির বদলে হালকা ছবি বা রঙ ব্যবহার করুন।
  • পণ্যের ছবি একই মাপে রাখুন, যাতে পেজ লাফ না দেয়।
  • নিচের দিকের ছবি পরে লোড হওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।
  • ছবির ভেতরে লেখা লিখবেন না, কারণ সার্চ ইঞ্জিন তা পড়তে পারে না আর ফোনে ছোট দেখায়।
কী কীভাবে ঠিক করবেন কেন দরকার
হোমপেজের বড় ছবি মাপ কমিয়ে হালকা ফাইল ব্যবহার করুন প্রথম দেখাতেই সময় চলে যায়
পণ্যের ছবি একই অনুপাতে কাটুন পেজ লাফায় না
ব্যানার লেখা আলাদা টেক্সট হিসেবে দিন ছবির লেখা পড়া যায় না
আইকন ছোট ফাইল ব্যবহার করুন অপ্রয়োজনে বড় আইকন ভারী

হোস্টিং আর ক্যাশিং

হোস্টিং হলো যে সার্ভারে সাইট থাকে। কম দামের শেয়ার্ড হোস্টিং (একই সার্ভারে অনেক সাইট) এ চাপের সময় উত্তর দিতে দেরি হয়। হোস্টিং বদলানো সবসময় সমাধান নয়, কিন্তু খুব ধীর হোস্টিং ঠিক করলে বাকি কাজের ফলও বোঝা যায় না।

ক্যাশিং মানে আগে তৈরি পেজ সংরক্ষণ করে রাখা, যাতে পরের বার দ্রুত দেখানো যায়। ওয়ার্ডপ্রেসে ক্যাশিং প্লাগইন বা হোস্টিংয়ের নিজের ক্যাশিং থাকতে পারে। একটি দিয়ে শুরু করুন, একসাথে কয়েকটি নয়, কারণ একাধিক ক্যাশিং নিজেদের সাথে সংঘাত করে।

সার্ভার যত দূর, তত সময় লাগে। তাই সাইটে যারা আসেন, তারা বেশি বাংলাদেশ থেকে হলে এমন সার্ভার বাছুন যেটি কাছাকাছি। দূরের সার্ভারে সাইট রাখলে কনটেন্ট ভালো হলেও দেরি হতে পারে।

থিম আর পেজ বিল্ডার

থিম সাইটের চেহারা ঠিক করে, আর পেজ বিল্ডার দিয়ে টেনে টেনে পেজ সাজানো যায়। দুটোই সুবিধা দেয়, কিন্তু ভারী হলে দামও আছে: বাড়তি স্ক্রিপ্ট, বাড়তি স্টাইল, আর বাড়তি ডাউনলোড।

থিম বাছার সময় দেখুন:

  • থিমটি কি নিয়মিত আপডেট হয়।
  • ডেমোতে যা দেখছেন, সেটাই কি আসল, নাকি অনেক প্লাগইন মিলিয়ে বানানো।
  • বাংলা লেখা ঠিকভাবে দেখায় কি না।
  • মোবাইলে ডিফল্টভাবে ভালো দেখায় কি না।

পেজ বিল্ডার ব্যবহার করলে প্রতিটি বাড়তি অংশ ওজন যোগ করে। যত কম বিল্ডার অংশ লাগে, তত হালকা পেজ। একই কাজ যদি বিল্ডার ছাড়া করা যায়, সেটাই ভালো।

প্লাগইন কতটা

প্রতিটি প্লাগইন কিছু কোড যোগ করে, আর অনেক সময় কিছু ডেটাবেস কাজও করে। দশটি ছোট প্লাগইন একটি বড় প্লাগইনের চেয়ে ভারী হতে পারে। তাই সংখ্যা নয়, দরকার দেখুন।

করণীয়:

  • যে প্লাগইন ব্যবহার হচ্ছে না, বন্ধ করে পরীক্ষা করুন।
  • একই কাজের দুটি প্লাগইন রাখবেন না, যেমন দুটি SEO প্লাগইন বা দুটি স্লাইডার।
  • বড় আপডেটের আগে ব্যাকআপ নিন।
  • প্লাগইন মুছে ফেলার আগে জেনে নিন সেটি কোনো ডেটা রেখে গেছে কি না।

একটি প্লাগইন বন্ধ করলে সাইট ভাঙে কি না, তা একবার দেখে নিন। সমস্যা হলে আবার চালু করে কারণ খুঁজুন।

বাংলা ফন্ট

বাংলা লেখা সুন্দর দেখাতে ফন্ট লাগে, কিন্তু প্রতিটি ফন্টের ওজন আলাদা ফাইল। তিন-চারটি ওজন ব্যবহার করলে সেগুলোও ডাউনলোড হয়। তাই যত কম ওজন লাগে, তত ভালো।

বাংলা ফন্টের ক্ষেত্রে:

  • শুধু যে ওজনগুলো সত্যিই ব্যবহার হচ্ছে, সেগুলোই রাখুন।
  • ফন্ট নিজের সাইট থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন, বাইরের সার্ভিসের উপর নির্ভর করবেন না।
  • লেখার মাপ আর লাইন হাইট দেখে নিন, কারণ বাংলা লেখা একটু বড় জায়গা নেয়।

হোমপেজে যা রাখবেন না

হোমপেজেই সবচেয়ে বেশি লোক আসেন, তাই সেখানে ভারী জিনিস সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে।

  • নিজে চালু হওয়া ভিডিও।
  • অনেক ছবির বড় স্লাইডার।
  • প্রথমেই লোড হওয়া চ্যাট উইজেট বা পপআপ।
  • বড় ব্যানার যেখানে আসল তথ্য কম।

একটি পরিষ্কার শিরোনাম, একটি ছবি, দরকারি তথ্য আর একটি স্পষ্ট বোতাম দিয়ে হোমপেজ শুরু করুন। বাকি জিনিস নিচে যেতে পারে।

বদল কাজ করেছে কি না বুঝবেন কীভাবে

একই ফোন, একই নেটওয়ার্ক, একই সময়ে পরীক্ষা করুন। একবারে অনেক কিছু বদলালে বোঝা যায় না কোনটিতে লাভ হয়েছে। তাই একটি বদল করুন, দেখুন, তারপর পরেরটি।

দেখুন:

  • হোমপেজ কি আগে খোলে।
  • ছবি কি আগে দেখা যায়।
  • বোতাম চাপলে সাথে সাথে কাজ করে কি না।
  • ফর্ম জমা হয় কি না।
  • ভেতরের পেজগুলোও ঠিক আছে কি না।

শুধু গতি নয়, কাজ করাও জরুরি। দ্রুত কিন্তু ভাঙা সাইট কাজে লাগে না।

চেকলিস্ট

  • ছবি ছোট করে আপলোড করা হয়েছে।
  • হোমপেজের বড় ভিডিও বা স্লাইডার সরানো হয়েছে।
  • একটি ক্যাশিং ব্যবস্থা চালু আছে।
  • অপ্রয়োজনীয় প্লাগইন বন্ধ করা হয়েছে।
  • বাংলা ফন্টের বাড়তি ওজন বাদ দেওয়া হয়েছে।
  • ফোনে ফর্ম আর বোতাম পরীক্ষা করা হয়েছে।
  • ব্যাকআপ রাখা আছে।

যা করবেন না

  • “সুপার ফাস্ট” বা “ইনস্ট্যান্ট স্পিড” নামের অচেনা প্লাগইন বসাবেন না।
  • ব্যাকআপ ছাড়া থিম বা প্লাগইনের ফাইল বদলাবেন না।
  • লাইভ সাইটে সরাসরি কোড এডিট করবেন না।
  • শুধু একটি স্কোর দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না, নিজের ফোনে দেখুন।
  • একসাথে তিনটি ক্যাশিং প্লাগইন চালাবেন না।

প্রশ্ন ও উত্তর

নতুন প্লাগইন না বসিয়ে কি সাইট দ্রুত করা যায়?

হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ হয়। ছবি ছোট করা, অপ্রয়োজনীয় প্লাগইন বন্ধ করা, হোমপেজের ভারী জিনিস সরানো আর বাংলা ফন্টের বাড়তি ওজন কমানো, এই চারটি কাজেই অনেক পার্থক্য দেখা যায়। নতুন প্লাগইন শেষ ধাপ, প্রথম নয়।

কত সময়ে পার্থক্য বোঝা যায়?

একটি বদল করার পরই একই ফোনে পরীক্ষা করুন। ধীর নেটওয়ার্কে পার্থক্য দ্রুত বোঝা যায়। যদি একবারে অনেক কিছু বদলান, তাহলে কোনটিতে লাভ হয়েছে তা আর বোঝা যাবে না। তাই একটি একটি করে বদলান।

নিজে করতে না পারলে কী করব?

আগে ব্যাকআপ নিন, তারপর ইমেইলে লিখুন সাইটের ঠিকানা আর কোন অংশ ধীর লাগে। আমরা দেখে বলি কোন কাজগুলো আগে দরকার। নিয়মিত আপডেট আর ব্যাকআপের জন্য কেয়ার প্ল্যান নেওয়া যায়।

এই লেখায় ভুল দেখলে ইমেইল করুন। ইমেইল করুন

প্রশ্ন ও উত্তর

নতুন প্লাগইন না বসিয়ে কি সাইট দ্রুত করা যায়?

হ্যাঁ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ হয়। ছবি ছোট করা, অপ্রয়োজনীয় প্লাগইন বন্ধ করা, হোমপেজের ভারী জিনিস সরানো আর বাংলা ফন্টের বাড়তি ওজন কমানো, এই চারটি কাজেই অনেক পার্থক্য দেখা যায়। নতুন প্লাগইন শেষ ধাপ, প্রথম নয়।

কত সময়ে পার্থক্য বোঝা যায়?

একটি বদল করার পরই একই ফোনে পরীক্ষা করুন। ধীর নেটওয়ার্কে পার্থক্য দ্রুত বোঝা যায়। যদি একবারে অনেক কিছু বদলান, তাহলে কোনটিতে লাভ হয়েছে তা আর বোঝা যাবে না। তাই একটি একটি করে বদলান।

নিজে করতে না পারলে কী করব?

আগে ব্যাকআপ নিন, তারপর ইমেইলে লিখুন সাইটের ঠিকানা আর কোন অংশ ধীর লাগে। আমরা দেখে বলি কোন কাজগুলো আগে দরকার। নিয়মিত আপডেট আর ব্যাকআপের জন্য কেয়ার প্ল্যান নেওয়া যায়।

সব লেখা

আপনার কাজটা নিয়ে কথা বলুন

কী দরকার লিখে ইমেইল করুন। আমরা প্রশ্ন নিয়ে ফিরি, তারপর টাকায় কোটেশন দিই।

ইমেইল করুন