ব্লগ
ওয়েবসাইটের দাম কী কী মিলে ঠিক হয়
বাংলাদেশে ওয়েবসাইটের দাম কী ঠিক করে: পেজ, দোকান সুবিধা, কনটেন্ট ও যত্ন। নির্দিষ্ট দাম কীভাবে হয়, তা সহজ ভাষায়।
একটি ওয়েবসাইটের খরচ মানে শুধু বানানোর টাকা নয়। ডোমেইন, হোস্টিং, ছবি ও লেখা, অনলাইন পেমেন্ট আর লঞ্চের পরের দেখভাল, সব মিলিয়ে পুরো হিসাব হয়। যে দাম দেখে আপনি সিদ্ধান্ত নেন, সেটি এই কয়টি অংশের যোগফল।
ওয়েবসাইটের খরচ কয় ভাগে ভাগ হয়
ওয়েবসাইটের খরচকে মোটামুটি তিন সময়ে ভাগ করা যায়: একবারের কাজ, প্রতি বছর আসা খরচ, আর লঞ্চের পরের যত্ন। নিচের ছয়টি লাইন সেই ভাগগুলোর ভেতরেই পড়ে। বানানোর কাজ একবার লাগে। ডোমেইন আর হোস্টিং প্রতি বছর লাগে। যত্ন মাসে বা বছরে নেওয়া যায়।
| খরচের অংশ | এর মধ্যে কী থাকে | কখন লাগে |
|---|---|---|
| ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট | পেজ, ফিচার, ফোনে পরীক্ষা | একবার, শুরুতে |
| ডোমেইন | আপনার নামের ঠিকানা | প্রতি বছর |
| হোস্টিং | সাইট রাখার সার্ভার | মাসে বা বছরে |
| কনটেন্ট | ছবি, লেখা, পণ্যের তথ্য | শুরুতে, পরে দরকার মতো |
| অনলাইন পেমেন্ট | গেটওয়ে সেটআপ, লেনদেনের চার্জ | অনলাইন দোকান হলে |
| যত্ন | আপডেট, ব্যাকআপ, ছোট ফিক্স | মাসে বা বছরে |
এই ছয়টি আলাদা আলাদা জিনিস। কেউ যখন একটি দাম বলেন, তখন জিজ্ঞেস করুন এর মধ্যে কোন কোনটি আছে। অনেক সময় কোটেশন শুধু বানানোর কাজ ধরে, ডোমেইন বা হোস্টিং আলাদা থাকে।
কোন জিনিস দাম সবচেয়ে বেশি বদলায়
দাম সবচেয়ে বেশি বদলায় কাজের পরিধি: কত পেজ, কী কী ফিচার, আর অনলাইনে টাকা নেবেন কি না। একই রকম দেখতে দুটি সাইটের দাম তাই অনেক আলাদা হতে পারে, কারণ বাইরের চেহারা এক হলেও ভেতরের কাজ আলাদা।
পেজের সংখ্যা
একটি পেজ আর দশটি পেজ এক জিনিস নয়। প্রতিটি পেজে লেখা সাজানো, ছবি বসানো, ফোনে দেখতে ভালো করা আর পরীক্ষা করতে হয়। পেজ বেশি হলে সময়ও বেশি লাগে।
অনলাইন দোকান
শুধু পণ্য দেখানোর সাইট আর অনলাইনে টাকা নেওয়ার সাইট এক নয়। দোকানে পণ্যের তালিকা, স্টক, অর্ডার, ডেলিভারি চার্জ, পেমেন্ট আর ফেরতের নিয়ম যোগ হয়। প্রতিটি অংশ আলাদা কাজ।
ভাষা
এক ভাষার সাইট সহজ। বাংলা আর ইংরেজি দুই ভাষায় সাইট বানালে প্রতিটি লেখা, বোতাম আর মেসেজ দুইবার লিখতে হয়। বাংলা ফন্ট আর লাইন হাইটও আলাদা করে দেখতে হয়, কারণ বাংলা লেখা একটু বড় জায়গা নেয়।
কনটেন্ট কে দেবে
আপনি যদি ছবি, লেখা আর পণ্যের তথ্য গুছিয়ে দেন, কাজ দ্রুত হয়। না দিলে সেই কাজও কাউকে দিয়ে করাতে হয়। এটাই অনেক সময় দামের বড় পার্থক্য তৈরি করে, যদিও কোটেশনে আলাদা লাইনে থাকে না।
অন্য সিস্টেমের সাথে সংযোগ
হিসাবের সফটওয়্যার, SMS, ডেলিভারি সার্ভিস বা পেমেন্ট গেটওয়ের সাথে সংযোগ লাগলে দাম বাড়ে। কারণ প্রতিটি সংযোগে পরীক্ষা করতে হয়, আর তৃতীয় পক্ষের নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়।
সময়
স্বাভাবিক সময়ে কাজ করলে এক দাম, আর “আগামীকাল লাগবে” বললে আরেক দাম। দ্রুত কাজে অন্য কাজ পিছিয়ে যায়, তাই অনেক সময় দ্রুততার জন্য বেশি লাগে। এটি লুকানোর কিছু নেই, আগে বলাই ভালো।
ডিজাইন
নিজের মতো করে বানানো ডিজাইন আর রেডিমেড থিমে সাজানো সাইটের কাজ আলাদা। রেডিমেড থিম দ্রুত হয়, কিন্তু দেখতে অনেক সাইটের মতো লাগে। নিজের ডিজাইনে সময় বেশি লাগে, তবে সাইটটি আপনার ব্যবসার মতো দেখায়।
কম দামে কী ছাড়তে হয়
কম দাম মানে সবসময় খারাপ নয়। কিন্তু কম দামে কোথাও না কোথাও কম হয়। সাধারণত কনটেন্ট, ফোনে পরীক্ষা, ডকুমেন্টেশন বা লঞ্চের পরের যত্নে কম হয়।
যে জিনিসগুলো কম দামে বাদ পড়ে:
- প্রতিটি পেজে আলাদা করে ফোনের পরীক্ষা।
- ছবি ছোট করে বসানো, যাতে ধীর ইন্টারনেটেও সাইট খোলে।
- বাংলা লেখার সঠিক ফন্ট আর লাইন।
- কোড হস্তান্তর আর লেখা ডকুমেন্টেশন।
- লঞ্চের পর ছোট ফিক্সের জন্য সময়।
যদি কেউ খুব কম দামে সব ফিচার দেবেন বলে, লিখিত পরিধি চেয়ে নিন। কোনটা এর মধ্যে আছে আর কোনটা নেই, সেই তালিকাই আসল দাম বলে দেয়।
কোটেশন কীভাবে কাজ করে
একটি ভালো কোটেশনে চারটি জিনিস থাকে: কাজের তালিকা, সময়, দাম, আর কী কী এর মধ্যে নেই। এই চারটি লিখিত থাকলে পরে কথা বদলায় না।
আমাদের কাজের ধাপ:
১. আপনি ইমেইলে লিখেন কী দরকার। ২. আমরা প্রশ্ন করি, যাতে কাজের পরিধি স্পষ্ট হয়। ৩. এক পাতায় কাজের তালিকা, সময় আর দাম পাঠাই। ৪. আপনি অনুমোদন দিলে কাজ শুরু। ৫. মাইলস্টোন (ধাপে ধাপে কাজ) ধরে কাজ এগোয়, পেমেন্টও সেভাবেই। ৬. লঞ্চের পর কোড, অ্যাকাউন্ট আর ডকুমেন্টেশন হস্তান্তর।
কোটেশন পেতে এই পাঁচটি তথ্য পাঠান:
- কী বানাতে চান, দুই-তিন লাইনে।
- কত পেজ বা কী কী স্ক্রিন লাগবে।
- কবে দরকার।
- বাজেটের ধারণা, থাকলে।
- পছন্দের সাইটের লিংক বা স্ক্রিনশট।
এই তথ্যগুলো যোগাযোগ পাতায় লেখা আছে, আর সরাসরি ইমেইল করলেও হয়।
নিজের নামে কী কী রাখবেন
ডোমেইন, হোস্টিং, পেমেন্ট গেটওয়ে আর কোড, এই চারটি আপনার নামে বা আপনার অ্যাকাউন্টে থাকা ভালো। তাহলে পরে অন্য কাউকে দিয়ে চালাতে চাইলে সহজ হয়।
ডোমেইন আর হোস্টিং আলাদা করে কেনা যায়, আর সেগুলোর রিনিউয়াল তারিখ ক্যালেন্ডারে লিখে রাখুন। রিনিউয়াল মিস হলে সাইট বন্ধ হয়ে যেতে পারে, আর ডোমেইন অন্য কেউ কিনে নিতে পারে।
যে ভুলগুলো দাম বাড়ায়
- কাজের মাঝে বারবার পরিধি বদলানো।
- ছবি আর লেখা শেষ মুহূর্তে দেওয়া।
- সিদ্ধান্ত নেওয়ার লোক একজনের বেশি হওয়া।
- শুধু দাম দেখে তুলনা করা, পরিধি না দেখে।
- রিনিউয়াল আর ব্যাকআপের খরচ হিসাবে না ধরা।
এই পাঁচটি এড়ালে কাজ দ্রুত হয়, আর দামও অনুমানের মধ্যে থাকে।
কখন ওয়েবসাইট না বানিয়ে Facebook পেজেই চলে
সব ব্যবসার এখনই ওয়েবসাইট দরকার নেই। যদি পণ্য খুব কম হয়, কাস্টমার সবাই Facebook থেকেই আসেন, আর আপনি নিয়মিত সাইটে কিছু যোগ করবেন না, তাহলে একটি পরিষ্কার Facebook পেজ আর একটি শীট দিয়েই অনেক দিন চলে যায়।
নিজের সাইট দরকার হয় তখন, যখন আপনি নিজের নামে ঠিকানা চান, সার্চে পাওয়া চান, বা Facebook-এর নিয়ম বদলালেও কাস্টমারের তালিকা নিজের কাছে রাখতে চান। এই সিদ্ধান্তটা টাকার আগে, কাজের ধরন দেখে নেওয়া ভালো।
সংক্ষেপে
ওয়েবসাইটের দাম ঠিক করে কাজের পরিধি, কনটেন্ট কে দেবে, অনলাইন পেমেন্ট লাগবে কি না, আর লঞ্চের পর কত যত্ন নেবেন। সংখ্যা না মিলিয়ে আগে পরিধি মিলিয়ে দেখুন। দুটি কোটেশন পেলে জিজ্ঞেস করুন কোন কোন জিনিস এর মধ্যে আছে আর কোনটা নেই।
আপনার কাজটা কী, দুই-তিন লাইনে লিখে ইমেইল করুন। আমরা প্রশ্ন নিয়ে ফিরি, তারপর টাকায় কোটেশন দিই। বিস্তারিত কাজের ধরন সার্ভিস পাতায় আর কাস্টম কাজের পাতায় আছে।
প্রশ্ন ও উত্তর
শুরুর দাম কত?
একটি সংখ্যা বলা সম্ভব নয়, কারণ পেজ আর ফিচার বদলালে দাম বদলায়। আপনি কী বানাতে চান, কত পেজ, অনলাইনে বিক্রি করবেন কি না, এই তথ্য লিখে ইমেইল করলে আমরা টাকায় নির্দিষ্ট কোটেশন দিই। কোটেশনে কী কী এর মধ্যে আছে, তাও লেখা থাকে।
ডোমেইন আর হোস্টিং কি কোটেশনের মধ্যে?
সাধারণত আলাদা, কারণ এগুলো প্রতি বছর লাগে আর আপনার নামে থাকা ভালো। কোটেশনে কোনটা কার দায়িত্ব, তা লিখে দেওয়া হয়। রিনিউয়ালের তারিখ আর খরচ আগে জেনে নিলে পরে চমক থাকে না।
কোড আর ডিজাইন কি আমার হবে?
হ্যাঁ। শেষ পেমেন্টের পর কোড, ডিজাইন আর অ্যাকাউন্ট আপনার কাছে হস্তান্তর করা হয়, ডকুমেন্টেশনসহ। কোন জিনিস আলাদা থাকবে, তা কাজ শুরুর আগেই কোটেশনে লেখা থাকে।
এই লেখায় ভুল দেখলে ইমেইল করুন। ইমেইল করুন
প্রশ্ন ও উত্তর
শুরুর দাম কত?
একটি সংখ্যা বলা সম্ভব নয়, কারণ পেজ আর ফিচার বদলালে দাম বদলায়। আপনি কী বানাতে চান, কত পেজ, অনলাইনে বিক্রি করবেন কি না, এই তথ্য লিখে ইমেইল করলে আমরা টাকায় নির্দিষ্ট কোটেশন দিই। কোটেশনে কী কী এর মধ্যে আছে, তাও লেখা থাকে।
ডোমেইন আর হোস্টিং কি কোটেশনের মধ্যে?
সাধারণত আলাদা, কারণ এগুলো প্রতি বছর লাগে আর আপনার নামে থাকা ভালো। কোটেশনে কোনটা কার দায়িত্ব, তা লিখে দেওয়া হয়। রিনিউয়ালের তারিখ আর খরচ আগে জেনে নিলে পরে চমক থাকে না।
কোড আর ডিজাইন কি আমার হবে?
হ্যাঁ। শেষ পেমেন্টের পর কোড, ডিজাইন আর অ্যাকাউন্ট আপনার কাছে হস্তান্তর করা হয়, ডকুমেন্টেশনসহ। কোন জিনিস আলাদা থাকবে, তা কাজ শুরুর আগেই কোটেশনে লেখা থাকে।
আপনার কাজটা নিয়ে কথা বলুন
কী দরকার লিখে ইমেইল করুন। আমরা প্রশ্ন নিয়ে ফিরি, তারপর টাকায় কোটেশন দিই।